কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে অনেক নারীই টানা কয়েক ঘণ্টা হিজাব পরে থাকেন। হিজাব শালীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন না করলে চুল, মাথার ত্বক ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে দীর্ঘ সময় হিজাব পরেও স্বস্তি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। একই হিজাব টানা কয়েক দিন ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘাম, ধুলাবালি ও ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কাপড়ে জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ত্বকে ব্রণ, চুলকানি বা দুর্গন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নিয়মিত হিজাব ধুয়ে পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। হিজাবের পাশাপাশি আন্ডারক্যাপ, হিজাব পিন, ম্যাগনেটিক ক্লিপ বা ব্রোচের মতো আনুষঙ্গিক জিনিসগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন, অন্যথায় এগুলো ত্বকের সংস্পর্শে এসে জীবাণু ছড়াতে পারে।
চুলের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে গোসলের পর চুল পুরোপুরি শুকিয়ে তবেই হিজাব পরা উচিত। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় চুল ঢেকে রাখলে মাথার ত্বকে খুশকি, ছত্রাক ও চুলকানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, হিজাব বা আন্ডারক্যাপ খুব বেশি টাইট করে বাঁধবেন না। অতিরিক্ত চাপের ফলে মাথাব্যথা, অস্বস্তি এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবসময় আরামদায়কভাবে হিজাব পরার চেষ্টা করুন।
আবহাওয়া অনুযায়ী হিজাবের কাপড় নির্বাচন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কটন, ভিসকোজ, জার্সি বা হালকা লিনেনের মতো কাপড় বেশি আরামদায়ক। এসব ফেব্রিক বাতাস চলাচলে সহায়তা করে এবং অতিরিক্ত ঘাম কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ পানিশূন্যতা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। মুখ ও ঘাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি হালকা ময়েশ্চারাইজার ও প্রয়োজনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। হিজাবের নিচে খুব ভারী মেকআপ না করাই ভালো, কারণ এতে ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক বা দুই দিন চুল খোলা রেখে স্বাভাবিক বাতাস লাগতে দেওয়া চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পরিশেষে, হিজাব ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য শালীনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন হলেও, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সমান গুরুত্ব দিলে তা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্যও নিশ্চিত করে।