ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগের প্রায় দুই সপ্তাহ পর দেশের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের হিসাব পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যতই এগোচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। এতে রাজধানী কারাকাসসহ উপকূলীয় অঞ্চল ও শহরগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পার্লামেন্ট প্রধান হোর্হে রদ্রিগেস টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
উদ্ধারকারী দল তল্লাশি বন্ধ করে দিলেও স্বজনরা এখনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আপনজনের মরদেহ খুঁজছেন। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় পরিষেবাগুলো আগে থেকেই ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বুধবার ভেনেজুয়েলা সরকার জাতিসংঘের কাছে প্রায় ৩০ কোটি ডলারের জরুরি ত্রাণ সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই অর্থ ১৩ লাখ মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ রান্নাঘর, ক্লিনিক এবং ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিদেশে অবরুদ্ধ করে রাখা ভেনেজুয়েলার সম্পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় থাকা প্রায় ৩০ টন সোনা মুক্ত করার জন্য গত বুধবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে দেলসি রদ্রিগেস দেশে কোনো ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগে সরকারের সাড়াদানে ঘাটতি ছিল বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।