কাতারের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি এবং দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আর নেই। রোববার (১২ জুলাই) ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশটির রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি অবিচল ঈমান রেখে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির সংবাদ জানানো হচ্ছে। বিবৃতিতে তার প্রতি মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে ফাদার আমির হিসেবে পরিচিত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ করা হয়।
১৯৯৫ সালে কাতারের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হামাদ। দীর্ঘ দুই দশকের শাসনামলে তিনি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে কাতারকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে রূপান্তর করেন। তার নেতৃত্বেই দেশটিতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের জোয়ার আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি বাজারে কাতারের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয় কাতার।
২০১৩ সালে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর থেকে তিনি ‘ফাদার আমির’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে সম্মানসূচক ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
তার মৃত্যুতে কাতারজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির সরকার খুব দ্রুতই জানাজা, রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবে। শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।