অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | এক দশকের অবহেলায় মৃত্যুফাঁদে রূপসা শিপইয়ার্ড সড়ক
৪ কিলোমিটার সড়কে চরম দুর্ভোগ, গর্তে আটকে ট্রাক—ঘণ্টার পর ঘণ্টা অচল যোগাযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি | খুলনা
খুলনার রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে রূপসা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শিপইয়ার্ড সড়ক দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবহেলা আর অনিয়মিত সংস্কারের কারণে এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চল সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ভেঙে গেছে কার্পেটিং, সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
সম্প্রতি একই স্থানে দুটি ভারী ট্রাক গর্তে আটকে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল। ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা এলেই সড়কের প্রকৃত অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে তলিয়ে যায় গভীর গর্তগুলো, ফলে চালকরা গর্তের অবস্থান বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এই পথে।
শিল্পাঞ্চলের প্রাণরেখা, তবুও অবহেলিত
রূপসা শিপইয়ার্ড সড়ক খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে খুলনার যোগাযোগেও এ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময় এবং প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে কিছু গর্তে ইট বা খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা আবার নষ্ট হয়ে যায়। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
একজন রিকশাচালক বলেন,
“প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় লাগে। কখন গর্তে চাকা পড়ে উল্টে যাব, বলা যায় না।”
একজন ট্রাকচালক বলেন,
“ভারী গাড়ি নিয়ে এই রাস্তা পার হওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটু অসাবধান হলেই গর্তে আটকে যায়।”
দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের দাবি—অস্থায়ী সংস্কার নয়, রূপসা শিপইয়ার্ড সড়কের টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আর অবহেলার প্রতীক না হয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগের পথ হিসেবে গড়ে ওঠে।