ভোলার মনপুরায় নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে এক কৃষককে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে মারধর ও মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া করে) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন এই অভিযোগ করেন। আলাউদ্দিন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত শনিবার সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার বিএনপি কার্যালয়ে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আলাউদ্দিন জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফরিদ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে সেই বিরোধের সমাধান হয়েছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে চৌকিদারের মাধ্যমে তাকে বিএনপি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জাকির হোসেন দুলালের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর তাকে বাজারে বাজারে ঘোরানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, মারধরের কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সামনে, বিশেষ করে কোরআনের হাফেজ ছেলের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এদিকে, নির্যাতনের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল এবং স্থানীয় মানুষের তোপের মুখেই তাকে ন্যাড়া করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নারীদের উত্যক্ত করার সাথে জড়িত।
ঘটনাটি নিয়ে মনপুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাহাত বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। ঘটনাটি সত্য হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং ভুক্তভোগী চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর বিষয়টিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।