গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।

উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা ১৯৯৬, ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহুবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন।

শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনা ইউনেসকোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ ও ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’। তাঁর স্বামী পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। শেখ হাসিনার দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন।