যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় এক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লিখিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে এই জয় নিশ্চিত করে। আগামী রোববার অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেজ প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে সমতাসূচক গোল করেন। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্তিনেস হেডের মাধ্যমে দলের জয়সূচক গোলটি করেন।
এই ম্যাচে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার উভয় গোলেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার সহায়তায় করা গোলের সংখ্যা এখন ১০টি, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় অন্তত ছয়টি বেশি। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে টানা ১১টি ম্যাচে গোল অথবা গোলে সহায়তা করে তিনি ১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘতম ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে ঘন ঘন ফাউলের কারণে খেলা বারবার ব্যাহত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণের তীব্রতা বাড়লেও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড নিকো গনসালেস ও অ্যালেক্সিস মাক আলিস্টারের একাধিক প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন। এর আগে মাক আলিস্টারের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড আর চাপ সামলাতে পারেনি।
মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর পর এই ম্যাচেও যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল পেল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের এক আসরে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে একাধিক জয়সূচক গোল করা প্রথম দল হিসেবে তারা ইতিহাস গড়েছে। নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। চতুর্থ শিরোপা জিতলে তারা ইতালি ও ব্রাজিলের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ী তৃতীয় দেশ হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।