পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের গ্রেফতারের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আগামী ৫ আগস্ট দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে তার দল। গত বুধবার (১৫ জুলাই) দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেন, “সংসদীয় বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৫ আগস্ট সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পিটিআইয়ের সংসদীয় সদস্যরা দলনেতা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দীর্ঘদিনের কারাবন্দিত্বের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে এই কারাবাসকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার গওহর স্পষ্ট করে বলেন, “আগামী ৫ আগস্টের এই বিক্ষোভ আগের যেকোনো কর্মসূচির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের এবং জোরালো হবে।” আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিটিআই বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলেও এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার চূড়ান্ত রায় আসেনি। সামনে দলটির রাজনৈতিক কমিটি ও বিরোধী জোট যৌথভাবে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা বা রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর ইমরান খানকে তার লাহোরের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই বন্দি আছেন। পিটিআইয়ের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবাদের শত শত মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরই মধ্যে কিছু মামলায় তার সাজা স্থগিত বা বাতিল হলেও, বেশ কয়েকটি মামলার আপিল এখনো আদালতে বিচারাধীন থাকায় তার মুক্তি মিলছে না। ইমরান খানও শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এর আগে, গত ১২ জুলাই খাইবার পাখতুনখোয়ার লোয়ার দিরে এক কর্মী সমাবেশে ইমরান খানের বোন আলিমা খান তার ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও আইনপ্রণেতাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে রাজপথে থাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এদিকে, ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, কারাগারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি চোখের চিকিৎসার জন্য তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে তার চোখে পঞ্চমবারের মতো বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (সিআরভিও) নামের চোখের একটি গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। এই রোগে চোখের রেটিনা থেকে রক্ত বহনকারী মূল শিরাটি বন্ধ হয়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের মতো ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।