কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বিনোদন কেন্দ্র ধর্মসাগর দীঘির সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই বুধবার বিকেলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে, গত ৬ জুন আমার দেশ পত্রিকায় ‘অবৈধ হকারদের দখলে কুমিল্লা ধর্মসাগর দিঘী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর গ্রিলের রড কেটে অর্ধ শতাধিক ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় এসব দোকান গড়ে তোলা হয়েছিল এবং দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো।

অভিযান পরিচালনাকারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন জানান, দীঘির পাড়ের সৌন্দর্য বজায় রাখা এবং সকাল-বিকাল শারীরিক কসরত করতে আসা নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তার ওপরের এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে কুমিল্লা নগরীকে সুন্দরভাবে সাজানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নগরকে কলুষিত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ধর্মসাগর নয়, নগরীর সব সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দোকানগুলোর কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল, তাই এই অভিযান সময়োপযোগী। তবে নগরীর বিশিষ্টজনরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একবার অভিযান চালিয়ে থেমে না থেকে, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে যেন মানুষের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন রাখা হয়, সেদিকে সিটি কর্পোরেশনকে সজাগ থাকতে হবে।