সনাতন ধর্মের পঞ্জিকা অনুসারে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের গাংজগদিয়া সার্বজনীন কালী মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য এই রথযাত্রা শুরু হয়। রথটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌমুখা পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে অংশগ্রহণকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত আনন্দিত হন। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক ভক্ত এই আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা আফরিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ, নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, বাবু অজয় কর, ডা. রণদা প্রসাদ সাহা, মদন গোপাল সাহা এবং নির্মল সাহা প্রমুখ।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ দেবের রথের দড়ি টানলে জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে করা সকল পাপ মোচন হয় এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই রথের দড়ি টানা একশটি যজ্ঞ করার সমান পুণ্য অর্জনের শামিল। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার এই রথযাত্রার মাহাত্ম্য এবং উৎসবের ঐতিহ্য যুগের পর যুগ নতুন প্রজন্মের মাঝে টিকে থাকবে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে রথের দড়ি টান দিলে জ্ঞানে অজ্ঞানে করা পাপ ধুয়ে মুছে যায়। এছাড়া জীবের সব দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ১০০ যজ্ঞ করার মতো পূর্ণ লাভ করা যায় রথের দড়ি টান দিয়ে। এমন উৎসব আচার যেন নতুন প্রজন্মের উপর টিকে থাকে যুগের পর যুগ এমনটাই বিশ্বাস রথযাত্রার সংশ্লিষ্ট দের।