গ্রীক পুরাণের আফ্রোদিতির মন্দিরের পূজারিণী হিরো পাহাড়ের চূঁড়ায় প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতেন, যা দেখে তার প্রেমিক লিয়েন্ডার উত্তাল হেলেসপন্ট নদী সাঁতরে প্রিয় মানুষের কাছে পৌঁছাতেন। এক ঝড়ের রাতে প্রদীপ নিভে যাওয়ায় লিয়েন্ডার নদীতে ডুবে মারা যান এবং শোকে হিরো নিজেও সেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন। যুগ যুগ ধরে এই করুণ প্রেমকাহিনি সাহিত্যে অমর হয়ে আছে।

দুই হাজার বছর পর আজকের ঢাকা শহরে লিয়েন্ডারের আধুনিক সংস্করণ হয়ে এসেছে অদ্রি। বর্ষায় ঢাকার অলিগলি যখন উত্তাল নদীর রূপ নেয়, তখন অদ্রির জন্য তার প্রেম হয়ে ওঠে এইচএসসি পরীক্ষা। প্রতিদিন ভোরে উঁচু ভবনের ওপর বাতাসে কাঁপতে থাকা সাদা মেঘকে সে হিরোর প্রদীপের মতো পথের নিশানা হিসেবে গণ্য করে।

এমনই এক বৃষ্টিস্নাত দিনে কোমর সমান পানি ভেঙে অদ্রি তার গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। বাসের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কায়দা করে বিআরটিসি বাসের বাম্পার আঁকড়ে ধরে কিছুটা পথ পাড়ি দেয়। পথিমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ খোলা ম্যানহোল সম্পর্কে সতর্ক করলেও অদ্রি তার গন্তব্যে অবিচল থাকে।

দুর্ভোগের এই দিনে রিকশাচালক থেকে শুরু করে পথচারীরা তার গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে অদ্রি মৃদু হেসে জানায়, সে তার প্রেমের কাছে যাচ্ছে। শহরের মানুষের কাছে অদ্রির এই প্রেম অবোধ্য মনে হলেও, সে প্রতিদিন সকাল দশটায় তার এই গহিন প্রেমের কাছে পৌঁছায় এবং দুপুর একটায় ফিরে আসে।

গ্রীক পুরাণের লিয়েন্ডারের মতো অদ্রিও এই প্রতিকূলতায় সাঁতরে যায় তার এইচএসসি পরীক্ষার কাছে। অদ্রির এই স্বপ্ন একদিন শেষ হবে এবং বৃষ্টির পর শহরের আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসবে। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে অদ্রি বুক ভরে শ্বাস নেবে, ঠিক যেমন গ্রীক পুরাণে নদী ও সমুদ্রের অনিশ্চিত পথে প্রেমের জন্য লড়াইয়ের কারণ আজও স্থির হয়ে আছে।