৩০ বছর বয়সে বন্ধুদের আড্ডায় কথাটা বলার পর সবাই যখন হাঁ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন তিনি বুঝতে পারেন, কত বড় বোকামি করেছেন! আড্ডার মাঝে কোনো বন্ধু যখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য দেয়, তখন স্বভাবতই মনে হতে পারে তাকে সংশোধন করে দিই। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কোনো ভুল তথ্য চ্যালেঞ্জ না করলে তা বারবার চর্চার ফলে মানুষ সেটিকে সত্য বলে ধরে নেয়। তাই ভুল তথ্যের প্রতিবাদ না করা মানে পরোক্ষভাবে সেই মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া। অনেক সময় সাধারণ ভুল ভাঙানো জরুরি হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ভুল তথ্য শুধরে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব, কারণ এতে বড় ধরনের আর্থিক বা শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

তবে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মনস্তাত্ত্বিক দিকও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ফিলিপ ম্যাকগ্রো নামের বিখ্যাত এক মার্কিন চিকিৎসকের একটা দারুণ উক্তি আছে, ‘তুমি কি সঠিক হতে চাও, নাকি সুখী হতে চাও?’ বন্ধুদের আড্ডায় সব সময় সঠিক হওয়ার চেয়ে মাঝেমধ্যে চুপ করে থেকে সুখী হওয়াটা বেশি জরুরি। কাউকে সংশোধন করার আগে নিজেকে যে ৫টি প্রশ্ন করা জরুরি: ১. সম্পর্কটি কেমন? ২. সম্পর্ক যত ক্যাজুয়াল, ভুল শুধরে দেওয়া তত সহজ। ৩. বিষয়টি কতটা সিরিয়াস? আড্ডার ছলে কেউ যদি বলে বসে, ‘অ্যাভাটার’ মুভিটা তো ২০০৭ সালে রিলিজ হয়েছিল (আসলে ২০০৯ সালে), তবে সেটা নিয়ে তর্ক করার কোনো মানে নেই। ৪. নিজের এনার্জি সঠিক জায়গায় খরচ করো। ৫. এর চেয়ে যদি বলো, ‘আমি তো একটা বইয়ে অন্য রকম পড়েছিলাম, দাঁড়া তো আরেকবার চেক করে দেখি’—এভাবে বললে আলোচনার একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। ১১ জন মানুষের আড্ডায় কাউকে ছোট না করে ভুল শুধরানোর সবচেয়ে স্মার্ট উপায় হলো তাকে আড়ালে নিয়ে বিষয়টি নম্রভাবে বুঝিয়ে বলা। মনে রাখবেন, তর্কে জেতার চেয়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখাই একজন স্মার্ট মানুষের পরিচয়।