মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পর টানা সপ্তম রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন স্থাপনায় এই হামলা পরিচালনা করেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে তারা হামলা বন্ধ করে। এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালির মাইন পাতা একটি নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সেন্টকম এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ছোড়া ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ইয়াজদ শহর, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি অস্বীকার করেছে। এর আগে কুয়েতের কর্মকর্তারা জানান, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়েকটি পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে। ওয়াশিংটন এর আগে তেহরানের সেই দাবিও নাকচ করে দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সেতু, রেলস্টেশন ও একটি বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হরমোজগান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি পার্সিয়ান যাচাই করে দেখেছে যে, গারিভেহ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাতের ভিডিওতে সেখানে আগুনের গোলা দেখা গেছে। দিনের আলোতে তোলা ছবিতে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই হামলা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।