বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা সাত দিনের ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে সরই ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মৎস্য প্রকল্প ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেয়াজুপাড়া বাজারপাড়া থেকে পুলাংপাড়ায় যাওয়ার একমাত্র সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। ইটের তৈরি এই সড়কে বড় বড় ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ডলু খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ধসে পড়েছে। ২০১২ সালে নির্মিত এই সেতুটি কিল্লাছড়া, বটতলী, ধুমছাপাড়া ও আন্ধারীপাড়াসহ অন্তত ছয়টি গ্রামের মানুষের ইউনিয়ন সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

প্রবল বর্ষণের প্রভাবে মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া তাহফিযুল কুরআনুল কারীম মাদরাসা ও সংলগ্ন মসজিদের নিচের মাটি ধসে পড়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঢলের পানিতে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এছাড়া কম্পোনিয়া পাড়া, কালাইয়া পাড়া ও টংগঝিরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২টি বসতঘর পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় মৎস্য চাষি মো. ইকবাল ও জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে মাছের ঘেরের বাঁধ ভেঙে তাদের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত আটটি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি কমে যাওয়ার ১০-১২ দিন পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে সরই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।