উজানের ঢল এবং অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, আগামী তিন দিন এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-নদ ও যমুনা অববাহিকার পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়ার পূর্বাভাস থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমার ছাতক ও কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।

সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে উজানের ভারী বৃষ্টিপাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোতেও পানির উচ্চতা বেশি রয়েছে। বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালে জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি বিরাজমান রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী একদিন এসব নদ-নদীতে এই জোয়ারের উচ্চতা অব্যাহত থাকতে পারে।