অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জালিয়াতি, মৃত ও ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড কর্তৃক নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পর শনিবার সন্ধ্যায় ‘আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আটাবের প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড এবং আপিল বোর্ডের কতিপয় সদস্য ব্যক্তিস্বার্থে প্রভাবিত হয়ে একটি অনিয়মের সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। নথিপত্রে স্বাক্ষর জালের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এই চক্রের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ পায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আটাবের প্রশাসক এবং নির্বাচন ও আপিল বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা ও পকেট কমিটি গঠনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছেন। নির্বাচন প্রভাবিত করতে তারা আপিল বোর্ডের অনুপস্থিত সদস্যের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নথিতে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করার মতো গুরুতর জালিয়াতি করেছেন। নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

এর আগে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড সাধারণ সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির পর আটাবের নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসক কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছাড়াই অবৈধভাবে নির্বাচন ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করেছিলেন। এছাড়া ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তি, ভুয়া নাম এবং লাইসেন্সবিহীন অস্তিত্বহীন ট্রাভেল এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আপিল বোর্ডের তিন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুইজনের উপস্থিতিতে শুনানি করে তিনজনেরই স্বাক্ষর জাল করে রায় প্রকাশের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আটাব প্রশাসক সাইফ উদ্দিন আহমেদ ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের তীব্র সমালোচনা করেন। এফবিসিসিআই-এর স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও আগামী ২৫ জুলাই যেনতেন প্রকারে প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পাঁয়তারা করায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা তাদের অপসারণ দাবি করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, এই বিতর্কিত চক্রকে দায়িত্বে রেখে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয়, তাই অনতিবিলম্বে তাদের অপসারণ করতে হবে।

আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এফবিসিসিআই-এর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ট্রাভেল সেক্টর দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি। এই খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে জালিয়াতির মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। যতক্ষণ পর্যন্ত জালিয়াতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণ ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ রাজপথ ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন আটাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ, প্যানেল প্রধান এএসএম ইব্রাহিম, সাবেক মহাসচিব জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু ও আফসিয়া জান্নাত সালেহ, মাহমুদুল আলম সিদ্দিকী, আমির হোসেন ভুইয়া টিপু এবং শফিক উল্লাহ নান্টু।