নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ধসে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আগেভাগে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাতে আরও বড় জোয়ারের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হোক। পাশাপাশি তারা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ধসের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বিষয়টি একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, তারা ধসে যাওয়া স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হলেও জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।