কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে, ১৯ জুলাই শুক্রবার, সারা দেশে ভয়াবহ সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে কেবল ঢাকাতেই অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে রংপুর, সাভার, সিলেট ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দৈনিক সমকালের ২০ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন ঢাকার বাইরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১২ জন, যার মধ্যে রংপুরেই পাঁচজন এবং গাজীপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট ও মাদারীপুরে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এই সহিংসতায় শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারীসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।
দিনভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। অনেক স্থানেই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়, যার ফলে হাসপাতালগুলোতে গুলিবিদ্ধ আহতদের ঢল নামে এবং চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ডিএমপি এবং কারফিউ জারি করা হয়।
সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বিআরটিএ ভবন, পিবিআই কার্যালয়, রামপুরা থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি, মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবন এবং মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুরবী পর্যন্ত পাঁচটি পুলিশ বক্সে হামলা চালানো হয়। এছাড়া নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে, যেখানে কারারক্ষীদের জিম্মি করা হয়।
সকাল থেকেই রাজধানী রামপুরা ও যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সূচনা হয়। এরপর ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও মহাখালীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসক্লাব ও পল্টন এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরেও সংঘর্ষ হয়। ঢাকার বাইরে খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রংপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুরেও ব্যাপক গোলযোগ দেখা দেয়।
আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও র্যাবের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, আকাশ থেকে কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম শক্ত হাতে দমন করা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, সরকারের সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের ৯ দফা দাবি পেশ করেছে এবং শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া রাজধানীর শাহবাগে ‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক সমাজ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এদিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে শুধু ঢাকায় অন্তত ৬২ জন নিহত হন। ঢাকার বাইরে রংপুরে দুইজন, সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে একজন করে মোট পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। (সূত্র: নিউ এইজ, ২০ জুলাই, ২০২৪)।