বিশ্বের জনপ্রিয় কাট-ফ্লাওয়ার লিলিয়াম তার আকর্ষণীয় রঙ, বড় আকার এবং দীর্ঘস্থায়ী সতেজতার জন্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন একটি ফুল। বিয়ে, করপোরেট অনুষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্ট এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আয়োজনে লিলিয়ামের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। এতদিন শীতপ্রধান দেশে উৎপাদিত এই দুর্লভ ফুলটি সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর থাকলেও, এখন বাংলাদেশে মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের টিস্যু কালচার ল্যাবে বাণিজ্যিকভাবে এর চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি দেশের ফুলচাষ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের টিস্যু কালচার ল্যাবে গিয়ে দেখা যায়, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত আলোয় কয়েক হাজার কাচের বয়ামে স্তরে স্তরে টিস্যু সাজিয়ে রাখা হয়েছে। উন্নত জাতের লিলিয়াম বাল্ব থেকে সংগৃহীত টিস্যুগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে মাইক্রো-শুট ও পরবর্তীতে শিকড় তৈরির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চারায় পরিণত হয়। ল্যাবে উৎপাদিত এই চারাগুলো রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় মাঠে ভালো ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব। ল্যাবের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বের করার পর চারাগুলোকে পলি হাউসে কোকোপিটের ট্রেতে ধাপে ধাপে বাইরের আবহাওয়ার সাথে অভ্যস্ত করা হয়। গাছ শক্ত হলে তা কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ল্যাবটি ৮ হাজার লিলিয়াম চারা উৎপাদন করেছে। বর্তমানে প্রতিটি চারা ৩০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এবং এ বছর ১৫ থেকে ২০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত এই চারা যশোর, পঞ্চগড় ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের সহকারী টিস্যু কালচারিস্ট ও কৃষিবিদ মো. এনামুল ইসলাম জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা লিলিয়াম বাল্ব ব্যয়বহুল এবং অনেক সময় গুণমান বজায় থাকে না। ল্যাবের মাধ্যমে মাতৃগাছের হুবহু গুণাগুণ সম্পন্ন চারা তৈরি করে লিলিয়াম ফুলকে সাধারণের কাছে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, লিলিয়াম ফুল প্রায় সাত দিন সতেজ থাকে। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চারা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমবে, তেমনি রপ্তানি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ফুলচাষিরাও মনে করছেন, স্থানীয়ভাবে চারা পাওয়া গেলে কম জমিতে অধিক অর্থনৈতিক লাভের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ফুলচাষে নতুন বৈচিত্র্য আসবে।