মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ শেষ বাঁশি বাজার পর লিওনেল মেসির জীবনে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে বেদনায় নীল হওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন পেয়েছেন, তেমনি জিতে পরম আনন্দের স্বাদও নিয়েছেন। ২০১৪ সালে মারাকানায় গোল্ডেন বল নেওয়ার সময় তাঁর সেই বিষাদগ্রস্ত পদচারণা আজও অনেকের চোখে ভাসে, যা যেন কোনো শবযাত্রার মতো ছিল। অথচ লুসাইলের আইকনিক স্টেডিয়ামে ট্রফি জয়ের পর তাঁর সেই আনন্দচঞ্চল উপস্থিতি ছিল দেখার মতো, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অতৃপ্তি ঘুচিয়ে দিয়েছিল।
২০২২ বিশ্বকাপে মেসির প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মুগ্ধতায় ঘেরা। মেক্সিকো আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ২টি গোল, নেদারল্যান্ডস ম্যাচে মলিনাকে ‘অ্যাসিস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ’, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই সর্পিল দৌড়—সবই ছিল স্বর্গীয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলসংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও, মেসির পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নাতীত। বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি বারবার বলেছিলেন, মেসি যতক্ষণ মাঠে আছেন, তাঁকে উপভোগ করে নিন। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কে ভাবেননি, বিশ্বকাপ মঞ্চে খুদে জাদুকরকে এই শেষবারের মতো দেখে নিলাম। কিন্তু মেসি আজও ঘোরতর বর্তমান।
ফাইনালের আগে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম পর্যন্ত বলেছিলেন যে, ফ্রান্সের অনেক সমর্থকও মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চেয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে মেসি শুধু প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদেরই বোকা বানাননি, সারা বিশ্বকেই তিনি এক মায়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথের গানের মতো, তাঁর জাদুর যেন কোনো শেষ নেই। মেসি এখনো ফুটবল মাঠে নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়ে চলেছেন, যেন তাঁর শেষ বলে কিছু নেই।