যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ২০১৬ সালের পর দেশটির ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম। গত মাসে স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি তাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এর আগে স্টারমারের নেতৃত্বে দলটি ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল।
রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর, সোমবার স্টারমারের বিদায়ী বক্তব্যের পরপরই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণ দেবেন বার্নহ্যাম। দ্য টাইমসকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গত এক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে নতুনভাবে দেশ পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, এতদিন যেভাবে কাজ করা হয়েছে তা সফল হয়নি, তাই তিনি ভিন্নভাবে কাজ করার চেষ্টা করবেন।
তার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথম ভাষণে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আঞ্চলিক প্রশাসনের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়গুলোতে তিনি গুরুত্ব দেবেন। একই দিনে তার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে র্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে পরিচিত বার্নহ্যাম ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত। লেবার পার্টির এমপিদের মতে, অভিবাসনবিরোধী ‘রিফর্ম ইউকে’-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় তিনি দলের সবচেয়ে কার্যকর নেতা হতে পারেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তাকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ধীরগতির অর্থনীতি, সরকারের ঋণের উচ্চ ব্যয়, সামাজিক কল্যাণ ব্যয় বৃদ্ধি, ছোট নৌকায় করে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ফলে জ্বালানির দামে অস্থিরতা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতিও ব্রিটিশ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বার্নহ্যাম সরকারি ব্যয় ও অর্থনীতি পরিচালনায় ভিন্ন কৌশল গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ব্যর্থতার খরচ বহনের চেয়ে বিনিয়োগ ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানুষকে সফল হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই হবে তার লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে স্টারমার সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল আইডি কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১৮০ কোটি পাউন্ড জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলাসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করা হবে।