ফরিদপুরের মধুখালীতে এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে মো. রহমত আলী (৪৩) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা মারা গেছেন। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের দেওয়ান আলীর ছেলে রহমত আলীর পরিবারে স্ত্রী কাকন বেগম এবং ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মধুখালীতে পান্না গ্রুপের মালিক শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন রহমত আলী। লোকমান হোসেন জানান, মোট আটজন বিকেলে তাঁর বাড়িতে আসেন। তাঁদের মধ্যে সোহান নামের একজনকে তিনি ব্যবসাসূত্রে চিনলেও বাকি সাতজন তাঁর বন্ধু, যাঁদের তিনি চিনতেন না। সোহান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে আলতু খান জুটমিলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার জন্য এসেছিলেন।
রহমত আলীর বড় ভাই মরম মিয়া জানান, তাঁর ভাই নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের নিমন্ত্রণে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন নাসিরনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাইনউদ্দিন শান্ত, সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী এবং কলিকুন্ডা গ্রামের হোসেন আহমেদ। সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী জানান, রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখার প্রস্তুতি ছিল তাঁদের। সন্ধ্যায় গানের আয়োজনে রহমত অনেক নাচানাচি করেছিলেন, কিন্তু নিচে নেমে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একজন সঙ্গীর ভাষ্যমতে, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে রহমত আলীর বুকে ব্যথা শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় তাঁকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সঙ্গী দাবি করেছেন, ওই রাতে রহমত আলী সবার সঙ্গে মদ পান করেছিলেন।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় জানান, পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন বা মুখ থেকে কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নাসিরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সেখানে তিনি মারা যান।রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রহমত আলীকে উপজেলা কমপ্লেক্সে আনা হয়।