ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির মাধ্যমে ইরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি করেছিল, হুথিদের এই নতুন পদক্ষেপ সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হুথি বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের নিপীড়নমূলক ও অন্যায্য অবরোধের জবাব হিসেবেই ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নীতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই তেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ওপর লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ায় সৌদি তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ থমকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি ঘটলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ অন্তত সাত শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলবাশার বলেন, হুথিরা সৌদি বন্দরগামী জাহাজগুলোতে সরাসরি আক্রমণ চালাবে কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সরাসরি হামলা না হলেও এই ধরনের ঘোষণার ফলে নৌ-পরিবহন খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, যার প্রভাবে সৌদি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।