বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ২১ জুলাই তার ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র প্রকাশ্যে আসে। অপহরণের পর ছাড়া পেয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদের শরীরে বাঁ ঊরু, দুই বাহু এবং কাঁধের বড় এলাকাজুড়ে রক্ত জমে তামাটে হয়ে যাওয়ার ক্ষত দেখা যায়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাহিদ জানান, দুই দিন আগে গভীর রাতে এক বন্ধুর বাসা থেকে সাদা পোশাকের ২০-২৫ জনের একটি দল তাকে তুলে নেয়। শুক্রবার গভীর রাতে যখন তারা ওই বাসায় হানা দেয়, তখন তিনি ছাদে আত্মগোপনে ছিলেন। অপহরণকারীরা তাকে নিচে নামিয়ে এনে বাসার সামনে থাকা তিন-চারটি ভারী গাড়ির একটিতে তুলে নেয়। গাড়িতে তোলার পরপরই কয়েক ভাঁজ কাপড় দিয়ে তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়।
নাহিদের ভাষ্যমতে, গাড়িটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট চলার পর তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজনের কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে লোহার লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। তিনি জানান, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টা অচেতন ছিলেন।
এদিকে নাহিদ নিখোঁজ থাকাকালীন তার মা মমতাজ নাহার ও বাবা বদরুল ইসলাম তাকে উদ্ধারের আশায় মিন্টো রোডে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে দিনভর অবস্থান করেছিলেন। সে সময় বদরুল ইসলাম সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছিলেন যে, ডিবি পুলিশ তার ছেলেকে ধরে আনলেও তা স্বীকার করছে না।
জ্ঞান ফেরার পর নাহিদ নিজেকে পূর্বাচল এলাকার একটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে একটি সাইনবোর্ডে ‘জলসিঁড়ি’ লেখা দেখে তিনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এরপর রোববার ভোরে একটি অটোরিকশা যোগে বনশ্রীতে নিজের বাসায় ফেরেন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হন।
সংবাদমাধ্যমের কাছে অপহরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ২০২৪ সালের ওইদিন নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদিন আগে গভীর রাতে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে তুলে নেওয়ার পর রোববার ভোরে তিনি পূর্বাচলে নির্জন একটি এলাকার রাস্তার পাশে নিজেকে আবিষ্কার করেন।
একপর্যায়ে তারা নাহিদকে লোহার লাঠি দিয়ে পেটান। নাহিদ বলেন, আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তার অনুমান, তিনি ২৪ ঘণ্টার মতো অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। ভোর ৪টা কি ৫টায় জ্ঞান ফিরলে দেখেন, বড় রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। সাইনবোর্ডে জলসিঁড়ি লেখা দেখে ধারণা করেন, তিনি পূর্বাচল এলাকায় আছেন।