ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু রোগের টিকা ব্যবহারের সরকারি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদার তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা ব্যবহারের জন্য এই অনুমতি মিলেছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) টিকাটির নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং কার্যকারিতা যাচাই-বাছাই করার পর ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বয়সের মানুষেরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটি নিতে পারবেন।
কিউডেঙ্গা টিকাটি দুই ডোজে প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম ডোজ নেয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। টিকাটির উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপানের তাকেদা ভারতের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বায়োলজিক্যাল ই-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ বা ধরনের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বৃটেন, সুইজারল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ মোট ৪২টি দেশে অনুমোদিত। এছাড়া টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি ডোজ কিউডেঙ্গা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনো উদ্বেগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রতি বছর ১০ থেকে ৪০ কোটি মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। ভারতের সরকারি তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, ভারতের নিজস্ব ডেঙ্গু টিকা তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্যানাসিয়া বায়োটেকের তৈরি ‘ডেঙ্গিঅল’ টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত ধাপে আছে। অনুমোদন পেলে এটি বিশ্বের প্রথম একক ডোজের ডেঙ্গু টিকা হিসেবে বিবেচিত হবে।