আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তদারকি সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিসের (এএসপি) সভাপতি পাইভি কাউকোরান্টা জানিয়েছেন, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিশোধমূলক আচরণের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফিনল্যান্ডের এই কূটনীতিক গত ১৭ জুলাই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এএসপির ২১ সদস্যের নির্বাহী ব্যুরো প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে কাউকোরান্টা করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব জাতিসংঘের অফিস অব ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেসের (ওআইওএস) কাছে হস্তান্তর করেন। এই তদন্তে করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের একটি অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওআইওএস তাদের প্রতিবেদনে চারটি অভিযোগ তদন্ত করে, যার মধ্যে একটি ছিল করিম খানের কার্যালয়ের এক নারী কর্মকর্তার করা যৌন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। বাকি তিনটি ছিল তার কার্যালয়ের সদস্যদের করা প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগ।
এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তকারীরা সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর ১৫০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণাদি এএসপির নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের প্যানেলের কাছে জমা দেয়। ওআইওএস তাদের প্রতিবেদনে জানায়, প্রতিশোধমূলক আচরণের একটি অভিযোগ প্রতিশোধমূলক ছিল না; বরং তা অভিযোগকারীর কর্মদক্ষতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নেওয়া হয়েছিল। বিচারকদের প্যানেল তিন মাস পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, উপস্থাপিত তথ্য কোনো অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘনের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করে না।
পরবর্তীতে এএসপি ব্যুরোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিচারকদের মতামত উপেক্ষা করে করিম খান অসদাচরণ করে থাকতে পারেন বলে মত দেন। মিডল ইস্ট আই (এমইই)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুনের ব্যুরোর গোপন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে করিম খান অভিযোগকারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগে কোনো অসদাচরণের সিদ্ধান্ত ব্যুরো নিতে পারেনি। কাউকোরান্টার সাম্প্রতিক চিঠিতেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাক্ষী ডব্লিউ০৬ ও ডব্লিউ১০-এর করা প্রতিশোধমূলক আচরণের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো অসদাচরণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে, করিম খানকে ঘিরে তদন্ত পরিচালনায় এএসপি ব্যুরোর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল একে একটি “রাজনৈতিক ভোট” হিসেবে অভিহিত করেছেন। বোরেলের দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরাইল ও হামাসের নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর থেকে আইসিসির ওপর যে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বর্তমান ঘটনা তারই একটি অংশ।
এতে পুরো প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।পরবর্তীতে করিম খান ও অভিযোগকারীদের অতিরিক্ত বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার পর ব্যুরো তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এএসপির কাছে পাঠায়।আগামী শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য এএসপির বৈঠকের আগে সদস্যভুক্ত ১২৫টি দেশের কাছে ওআইওএসের প্রতিবেদন, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথির সম্পাদিত কপি বিতরণ করা হয়েছে।