নতুন বিএনপি সরকারকে শ্রমিকবান্ধব হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষ সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগ করলেও গত দুই বছরে তাদের বাঁচার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুল হক আরও বলেন, সাধারণ শ্রমিকরা ছাত্রদের মতো ক্ষমতার ভাগ চায়নি; তারা কেবল নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা চেয়েছিল, যা এখনো পূরণ করা হয়নি।
আলোচনা সভায় তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেলের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা জরুরি ছিল।
সাইফুল হক বলেন, শ্রমিকের ন্যূনতম মানবিক জীবন নিশ্চিত করা ছাড়া উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব নয়। শ্রমিককে বাঁচার মতো মজুরি দেওয়াকে তিনি এক ধরনের বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বাঁচার আন্দোলন কোনো ষড়যন্ত্র নয়। শ্রমিকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে মাঠের লড়াই ও তাদের ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় এই সভায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য সামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন এবং বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ সবচেয়ে বেশি শহীদ হলেও গত দুই বছরে বাঁচার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ছাত্রদের মতো শ্রমিকরা ক্ষমতার ভাগ দাবি করেনি, তারা কেবল অধিকার আর মর্যাদা চেয়েছে, তাও পূরণ হয়নি। নতুন বিএনপি সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার।