ঢাকার সবুজবাগে ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে সবুজবাগের বাগপাড়া পানির পাম্প এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে হামলাকারীরা ইব্রাহীমের দুই হাতের কবজি কেটে নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনার পেছনে পারিবারিক মারধরের প্রতিশোধ নাকি মাদক কারবারের টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে।
ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে বাগপাড়া পানির পাম্পসংলগ্ন সোহাগের চায়ের দোকানের সামনে ১৫-২০ জনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইব্রাহীম। রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে রামদা ও চাপাতি নিয়ে প্রথম হামলা চালান সবুজবাগের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা হোসেন রয়েল (৩৭)। ইব্রাহীম বাঁচার জন্য দৌড়ে পালালে হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে পাশের একটি গলিতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহীমকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে মোস্তফা ছাড়াও তাঁর সহযোগী মো. সবুজ (২৮) ও শফিককে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত ইব্রাহীমের বড় বোন জোছনা বেগম বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোস্তফা, সবুজ ও শফিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। জোছনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের ডান হাতের কবজি থেকে আর বাঁ হাতের কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে নিয়েছে। এখনো পুলিশ হাতের কাটা অংশ খুঁজে পায়নি। এত নির্মমভাবে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারে না। সিসিটিভিতে আসামিদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেছে; কিন্তু এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার চাই।"
পুলিশ জানায়, নিহত ইব্রাহীম ও প্রধান আসামি মোস্তফা পূর্বপরিচিত এবং স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও রাজনৈতিক বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। হত্যার তিন দিন আগে একটি চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন নিয়ে মোস্তফার সঙ্গে ইব্রাহীমের মারামারি হয়, যেখানে মোস্তফার মা-বাবাকে মারধর করেন ইব্রাহীম। তখন মোস্তফা ইব্রাহীমের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এছাড়া আরেকটি সূত্র বলছে, মোস্তফা ও ইব্রাহীম স্থানীয় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি মোস্তফার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় চুরি, চাঁদাবাজি, মারধর ও হত্যাচেষ্টাসহ সাতটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টিতে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে। অন্যদিকে, নিহত ইব্রাহীমের বিরুদ্ধেও গত বছরের ১৬ এপ্রিল একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সরকার পতনের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কর্মী পরিচয়ে সালিস-বিচার করতেন। নিহত ইব্রাহীম লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আবুল বাশারের ছেলে এবং পেশায় প্রাইভেট কার চালক ছিলেন। তিনি সবুজবাগের ৭১ নম্বর মাদারটেক এলাকায় থাকতেন।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পূর্ববিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তার এবং কাটা হাত উদ্ধারে জোর চেষ্টা চলছে।