বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে ডিউটি পালন করে সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ইকনের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ফোন করে ইকনকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় ইকনের বাসায় উপস্থিত ছিলেন কালবেলার বাগেরহাট প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবু।

শিক্ষামন্ত্রীর পিএস ফারহান ইশতিয়াক জানান, ইকন যেন পরীক্ষার এই সময়ে বাড়তি চাপের কারণে চাকরি করতে বাধ্য না হয়, সেজন্য শিক্ষামন্ত্রী তাকে কাল-পরশুর মধ্যে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষা শেষ হলে পরবর্তীতে তার পড়াশোনার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কালবেলা অনলাইনে ইকনের এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, পরীক্ষার দিন সকালেই ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুপুরে মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন। তাদের আদি নিবাস গোপালগঞ্জে হলেও বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে তারা এই জেলা শহরে স্থায়ী হন। বাবার অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জ ফিরে গেলেও ইসরাফিল পরিবারসহ বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে ইকন তার মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের সঙ্গে ৪ হাজার টাকার ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করছেন।