ইসলামে ঈমান ও নেক আমলের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এর মাধ্যমে শুধু পরকালীন মুক্তি নয়, বরং দুনিয়ার জীবনেও আল্লাহতায়ালা অগণিত পুরস্কার ও কল্যাণ দান করেন। কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের আলোকে নেক আমলের এমন পাঁচটি পার্থিব পুরস্কারের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

নেক আমলকারীদের জন্য সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘মোমিন পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎ কাজ করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দময় জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রদান করব।’ (সুরা নাহল : ৯৭)।

নেক আমল জীবনে অফুরান শান্তির সৌরভ বয়ে আনে। অনেক অতীত সম্প্রদায়কে তাদের নেক আমলের কারণে আল্লাহ বরকতের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তাকে আমি লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম এবং তারা ঈমান এনেছিল, ফলে আমি তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।’ (সুরা সাফফাত : ১৪৭-১৪৮)।

আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় কাজ করা, ন্যায় ও সত্যের পথে চলা এবং ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় অর্জিত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন।’ (সুরা মুহাম্মাদ : ৭)।

নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়, যা পৃথিবীতে তার সম্মান ও খ্যাতি বাড়িয়ে দেয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নেক আমল করে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তাদের জন্য মানুষের অন্তরে ভালোবাসা তৈরি করে দেন।’ (সুরা মরিয়ম : ৯৬)।

নেক আমলের পার্থিব পুরস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দুনিয়ার ক্ষমতা লাভ করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ (সুরা নুর : ৪৫৫)।