স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এই সুপারিশ অনুমোদন করেছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার স্বার্থেই অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদন পর্যালোচনা করে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই সুপারিশ অনুযায়ী ইকোসক বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বরের আগে সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য যে, ওই দিনই বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ।

রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ পরিষদ যদি সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে, তবে তা প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এছাড়া এলডিসি-উত্তর সময়ের জন্য দেশের প্রস্তুতি আরও সুসংহত হবে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়। সরকারের যুক্তি হলো, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সংহত করা এবং ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ (এসটিএস)-এর আওতায় অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে।