বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতায় তাকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান যৌথভাবে তাকে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান এবং নতুন নৌপ্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম জে আরিফ বেগের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট তিন বছরের জন্য নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২৩ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং একই দিনে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণসহ মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দায়িত্ব পালন এবং ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। অসামান্য অবদানের জন্য তিনি নৌবাহিনী পদক, নৌ-পারদর্শিতা পদক ও জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।