সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এই বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
নির্বাচন কমিশনার জানান, কেবল দলীয় বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে সংসদ সদস্য পদ থাকা বা না থাকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি পেলে ইসি আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয়ে স্পিকারের রেফারেন্সের গুরুত্বের কথাও তিনি এ সময় উল্লেখ করেন। স্পিকারের পক্ষ থেকে রেফারেন্স আসলে ইসি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা ও শুনানি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ভিডিওগুলো নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সেগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। তিনি জানান, গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি এমপি নজরুল ইসলাম, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিয়ের আগে গাজী নজরুল ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন, যা দলের দৃষ্টিতে ‘পর্দা লঙ্ঘন’। তদন্ত কমিটি জানায়, এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই কেবল রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল যথেষ্ট নয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বুধবার তাকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা এই বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে। এছাড়া গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী তার আত্মীয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।