দিল্লি পুলিশের ‘প্রতিরোধমূলক আটক’ বা প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন করার ক্ষমতার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরনজিৎ সান্ধু এই ক্ষমতার মেয়াদ আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সরকারি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনরত তরুণদের বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

গত ১৫ জুলাই দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) ধারা ৩-এর উপধারা (২) অনুযায়ী দিল্লি পুলিশের কমিশনারকে এই ক্ষমতা প্রদানের কথা জানানো হয়। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে একটি নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গণমাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে এটি সিজেপির আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি তিন মাস অন্তর নিয়মিতভাবে এই ক্ষমতা নবায়ন করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এমন ব্যক্তিদের আটক করতে পারে যাদের কর্মকাণ্ড দেশের প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষতিকর বলে গণ্য হয়। এই আইনের আওতায় তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত কাউকে আটক রাখা সম্ভব। এটি সাধারণ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। দিল্লি সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, ১৯৮০-এর দশক থেকেই এই ক্ষমতা দিল্লি পুলিশের কমিশনারের হাতে ন্যস্ত এবং প্রতি তিন মাস পরপর এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কোনো বিশেষ অনুরোধ করা হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন শুরু হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। এআইএমআইএম সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছেন, যন্তর মন্তরের আন্দোলন কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে সরকার বিশেষ আদালতের কথা বলছে, অন্যদিকে কারণ প্রকাশ না করেই আন্দোলনকারীদের ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা দিচ্ছে। তার দাবি, দেশের তরুণরা নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছে, কিন্তু মোদি সরকার তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।