২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিতর্কের মুখে থাকা আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এই পিটিশনে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন। ইউরোপের একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘Argentina Out’ শিরোনামের পিটিশনটিতে সমর্থন জানিয়েছেন।
পিটিশনটির উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনার জেরে পিটিশনটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, আর্জেন্টিনা বিভিন্ন ম্যাচে রেফারিদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। পিটিশনে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি আগে থেকেই বিজয়ী নির্ধারিত থাকে, তবে অন্যান্য দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা কী?
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পায়। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ এবং স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর এনজো ফার্নান্দেজের বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে লাল কার্ড দেখার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দেয়। ফাইনাল শেষ হওয়ার পর উদ্যোক্তারা পিটিশনটি বন্ধ করে দেন এবং সমাপনী বার্তায় লেখেন, “ফিফা আমাদের কথা শোনেনি। কিন্তু স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ধন্যবাদ, স্পেন।”
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশন হিসেবে পরিচিত জুবিলি ২০০০ আন্দোলনের আবেদনে ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন স্বাক্ষর করেছিলেন। অর্থাৎ, এই আর্জেন্টিনাবিরোধী পিটিশনটি সেই বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও এই পিটিশনের কোনো আইনি বা সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ফিফা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা না থাকলেও এত অল্প সময়ে ২ কোটির বেশি মানুষের সমর্থন পাওয়া বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।