২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কেবল নতুন চ্যাম্পিয়ন বা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি যুগের অবসানের সাক্ষী হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিল। এই আসরের সমাপ্তির সাথে সাথে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি এবং মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা এখন নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন।

ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ সালে দুর্দান্ত অভিষেকের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ সীমিত থাকলেও নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ী ম্যাচে ৫৫ মিনিট খেলে তিনি অবসরের ঘোষণা দেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তার এই বিদায়কে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন।

২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর ঘোষণা করলেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলে বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর নিজের ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। তিনি বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক গ্রুপ পর্ব থেকে দলের বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা পরই অবসরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া বিদায়বার্তায় জানান, মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে শেষ ৩২ থেকে দলের বিদায়ের পর তিনি অবসরের কথা জানান। ইকুয়েডরের এনার ভ্যালেন্সিয়াও মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটিকে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি বিশ্বকাপের আগেই ঘোষণা করেছিলেন এটিই তার শেষ আসর। বিদায়বেলায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’ অস্ট্রিয়ার মার্কো আরনাউটোভিচ আবেগঘন কণ্ঠে জানান, অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এছাড়া সেনেগালের সাদিও মানের অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও তা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। ‘এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’ সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে। আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন।