দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ নিয়ে আজ বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তিনি তখন এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো গতকালই জানিয়েছিল যে, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, যার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদে তাঁর থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন ঘটল।