তীব্র বিমান হামলার মুখেও ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সেতু, উৎপাদন কেন্দ্র ও বন্দরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুনর্নির্মাণ করছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্র এবং ইসরায়েলি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের এই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, মাসের পর মাস ধরে তীব্র বিমান হামলা চালানো সত্ত্বেও এই ঘটনা ইরানের টিকে থাকার ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত মার্চ মাসে পশ্চিম ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গপথের প্রবেশদ্বার ও সংযোগকারী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই তোলা নতুন ছবিতে সেখানে নতুন করে তৈরি রাস্তা এবং পুনর্নির্মিত প্রবেশদ্বার দেখা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানি কর্মীবাহিনী মেরামত করেছে বলে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা। এই ঘটনাটি হামলার প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়েই ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই মাসের শুরুর দিকের স্যাটেলাইট চিত্রে কাস্পিয়ান সাগরের বন্দর নগরী বন্দর আনজালিতে অবস্থিত আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট একটি শিপইয়ার্ডের আংশিক পুনর্নির্মাণের চিত্রও ধরা পড়েছে। ইসরায়েলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক কমান্ডার রন কোচভ ইরানের এই দ্রুত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রশংসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তারা তাদের অস্ত্রের মজুদ আবার পূর্ণ করেছে। তাদের শিল্পায়ন ও পুনর্নির্মাণের ক্ষমতা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এটি মূলত তাদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করার সক্ষমতাকেই প্রতিফলিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট তাল ইনবার এই পুনর্নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল।