জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিক ইয়াছিনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৯ মে আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সোহানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং তা বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অথৈ ও ইয়াছিনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তারা ছোটবেলায় চট্টগ্রামের একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন। অথৈ ঢাকায় এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর ইয়াছিন তার পিছু নেন এবং একই এলাকায় চাকরি নিয়ে নিয়মিত উত্যক্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও ইয়াছিন অসংলগ্ন আচরণ, অপমানজনক কথাবার্তা এবং ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলসহ চরম মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ঘটনার দিন ২৯ এপ্রিল ক্যাম্পাসে সংগীত উৎসবের অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ইয়াছিন তাকে উৎসবে অংশ নিতে বারণ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, ইয়াছিনের এই অপমানজনক ও চাপ প্রয়োগকারী আচরণ সহ্য করতে না পেরে ওইদিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অথৈ নিজ রুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
নিহতের বাবা প্রণব মজুমদার এই ঘটনার বিচার ও সঠিক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি জানান, মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর স্বপ্ন ছিল তার, যা ইয়াছিনের মানসিক নিপীড়নে ভেঙে গেছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী সুমন কুমার রায় জানান, সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় আসামির মোবাইল থেকে ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক দাবি করেছেন, ইয়াছিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ বিষয়ে তার পরিবার থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি পরবর্তী তারিখে আদালতকে অবহিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের একটি বাসা থেকে অথৈয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন ইয়াছিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। লালবাগের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ইয়াছিন জামিনে মুক্ত থাকলেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।