স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামলেও টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কয়েকটি ম্যাচে কথিত ম্যাচ পাতানো (ম্যাচ-ফিক্সিং) এবং অস্বাভাবিক বেটিং কার্যক্রমের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা কোপেনহেগেন গ্রুপ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংস্থাটি সরাসরি ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট দাবি না করে সম্ভাব্য অনিয়মের ইঙ্গিত বা ‘বেটিং অ্যালার্ট’ চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছে অনলাইন মারকা।
কোপেনহেগেন গ্রুপের পর্যবেক্ষণে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ঘটনা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা। এছাড়া গ্রুপ পর্বে স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার গোলশূন্য ড্র এবং স্পেন বনাম সৌদি আরব ম্যাচে ভিএআরের (VAR) মাধ্যমে ফেরান তোরেসের গোল বাতিল করতে তিন মিনিটেরও বেশি সময় লাগার বিষয়টিও তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে। ফিফার সিদ্ধান্তে তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। স্পোর্টস পোর্টাল দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ফিফার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কোপেনহেগেন গ্রুপ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালোগান লাল কার্ড দেখার ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ২রা জুলাই ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণীমূলক প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে একটি বেটিং মার্কেট চালু হয়। সেখানে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল—‘ফোলারিন বালোগান কি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন?’ এর ঠিক তিন দিন পর ৫ই জুলাই ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
অবশ্য টুর্নামেন্টে অনিয়ম ঠেকাতে গঠিত ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্ক ফোর্স সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সবকটিই তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম তাদের নজরে আসেনি। কোপেনহেগেন গ্রুপের সতর্কতা এবং ফিফার পর্যবেক্ষণের মধ্যে এই বড় রকমের অমিল থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে সুনির্দিষ্টভাবে ম্যাচ-ফিক্সিং হওয়ার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে কেবল সন্দেহ ও পর্যবেক্ষণের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো দল, খেলোয়াড় বা ম্যাচকে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়নি।