ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ ঘটিয়ে দোল খাচ্ছে আউশ ধানের ক্ষেত। বোরো ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে কৃষি অফিসের পরামর্শে আউশ আবাদ করে বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সময়মতো জমি চাষ, অনুকূল আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে এবার ধানের অবস্থা বেশ ভালো। বোরো মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি ফসল হিসেবে আউশ চাষে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আখাউড়ায় আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২১২ হেক্টর জমিতে। আবাদ বৃদ্ধিতে প্রান্তিক কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার সদর দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মাঠগুলোতে আউশ ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। রোপণের পর থেকে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় এবার সেচ নিয়ে বাড়তি কোনো চিন্তা করতে হয়নি তাদের।
উপজেলার সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বোরো ধান কাটার পর তার ৪ বিঘা জমি খালি পড়ে ছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও দেওয়া সার-বীজ নিয়ে তিনি সেখানে আউশ ধান রোপণ করেন। সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে ধান গাছের অবস্থা এখন খুবই ভালো। কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আশাতীত ফলন পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
একইভাবে গত দুই বছর ধরে আউশ চাষ করা কৃষক মো. শাহনেওয়াজ এবার ৩ বিঘা জমিতে এই ধান বুনেছেন। তিনি জানান, বোরো ও আমনের মধ্যবর্তী সময়ে আউশ একটি লাভজনক অতিরিক্ত ফসল। এতে খরচ অনেক কম এবং নিয়মিত বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ লাগেনি বললেই চলে। এবার গত বছরের চেয়েও ভালো ফলন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ২ বিঘা জমিতে আউশ আবাদ করা অপর কৃষক মো. কুদ্দুস মিয়া জানান, পোকা-মাকড় ও রোগবালাই দমনে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
ফসলের রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকা দমনে পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি অর্থাৎ জমিতে কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ। আখাউড়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সী বলেন, আউশ মূলত একটি অতিরিক্ত ফসল। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আমরা মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও পরামর্শ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, প্রান্তিক কৃষকদের আউশ চাষে আগ্রহী করতে সরকারিভাবে সার ও বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে গিয়ে তদারকি ও পরামর্শ দিচ্ছেন। আউশ ধান চাষে খরচ অত্যন্ত কম কিন্তু লাভ অনেক বেশি। এই ফসলটি ঘরে তোলার পর কৃষকেরা পুনরায় একই জমিতে আমন ধান রোপণ করতে পারবেন, যা তাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।