সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ঘিরে নতুন এক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম হয়েছে। গত ২৪ জুলাই তার পদত্যাগের পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইনকিলাব মঞ্চের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও স্বৈরাচারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ এনে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও এটি আসলে সাবেক রাষ্ট্রপতির একটি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল। তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যদিকে, ঢাকায় এক বিক্ষোভ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ জাবের তাকে ‘গণহত্যার সহযোগী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিচারের দাবি জানান এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

তবে এসব দাবির বিপরীতে সাবেক রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের আলোকে আলোচিত হচ্ছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির জন্য সংবিধানে দুই ধরনের সুরক্ষা রয়েছে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের জন্য রাষ্ট্রপতি আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন এবং এই সুরক্ষা পদত্যাগের পরও বহাল থাকে। কিন্তু ৫১(২) অনুচ্ছেদে দায়িত্বে থাকাকালে গ্রেপ্তারের যে সুরক্ষা রয়েছে, পদত্যাগের পর তা আর কার্যকর থাকে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান ব্যাখ্যা করেছেন যে, সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমাহীন নয়। দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা সুনির্দিষ্ট আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা মামলা করা সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না তা সরকার খতিয়ে দেখবে। শনিবার সকালে এক সভায় তিনি বলেন, যদি কোনো মামলা থাকে, তবে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না তাও যাচাই করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেন।