ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে একে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করছেন না তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়া বাকি রয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগ কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে এটি একটি জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে যে পরিবর্তন আনা সম্ভব, এই আন্দোলন তা প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলা ও বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় পুলিশের যে ভূমিকা ছিল, তার উল্লেখ করে রাহুল বলেন, এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ইতোমধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) পুনর্গঠন এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।