ভারতে গত ১১ বছরে অর্থাৎ ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৯১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) সাম্প্রতিক ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া’ (এডিএসআই) প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, এক দশকের ব্যবধানে দেশটিতে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮ জন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে পারিবারিক সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে পরীক্ষায় ব্যর্থতার বিষয়টি। শুধু ২০২৪ সালেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে ২ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যা ওই বছরের মোট শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এছাড়া মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। কোচিংনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কোটা, দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও পুনের মতো শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে আন্দোলন করছেন। বিশেষ করে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে ২০২২ সালে ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশল গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য চালু করা ‘মনোদর্শন’ হেল্পলাইনে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩ লাখ ৩২ হাজারের বেশি কল এসেছে।