জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন জোটের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, কর্মসূচি থেকে দূরে থাকলেও দল দুটি এখনো জোটের অংশ হিসেবেই রয়েছে।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী জানিয়েছেন, তাদের দল এখন থেকে এককভাবে কর্মসূচি পালন করবে এবং প্রয়োজনে অন্য দলের সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখবে। দলটির অভিযোগ, জোটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের একক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। এর আগে গত জুনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা না হওয়া এবং উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তাকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার ৭টি দলকে নিয়ে নতুন ঐক্যের উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানিয়েছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ কমিয়ে ধর্মের বিষয়ে এক থাকার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলগুলোর কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে তা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হেফাজতের অভ্যন্তরীণ কিছু নেতা এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, যারা কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে তারা এখনো জোটে আছে এবং সংসদেও তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তবে তিনি এই নতুন ঐক্যের উদ্যোগের পেছনে সরকারের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার জানান, তারা এখনো জোট ছেড়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং নতুন ঐক্যের বিষয়টিও এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের মতে, হেফাজতের উদ্যোগে যে ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা মূলত ধর্মীয় বিষয়ে বোঝাপড়ার জন্য, রাজনৈতিক ঐক্যের জন্য নয়।