জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী’। রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের তোলা নির্বাচিত ও সেরা আলোকচিত্রগুলো স্থান পেয়েছে। এসব ছবিতে সৃজনশীলতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম, সমসাময়িক বিষয়, সমাজ-বাস্তবতা, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির উপদেষ্টা এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি কেবল একটি শিল্প নয়, বরং ইতিহাসকে ধারণ করার এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহীদ সাজিদের স্মৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এই প্রদর্শনী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি স্মৃতি, সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার এক মিলনমেলা। জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাজিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চর্চাকে উৎসাহিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফটোগ্রাফিক সোসাইটির বর্তমান ও সাবেক সদস্য, তরুণ আলোকচিত্রী এবং সংস্কৃতিসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইকরামুল হক সাজিদ ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী সাজিদ ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে তিনি সাহস, আত্মত্যাগ ও ন্যায়সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।