স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নিয়োগের আশায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন লিফটম্যান সুমন মিয়া। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালের কাছে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত পিমা অ্যাসোসিয়েটসের কার্যালয়ে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন দুলালের উপস্থিতিতে তার ভাগনে রায়হানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর আরও অর্থ দাবি করা হলে সুমন মিয়া তা দিতে অপারগতা জানান। শেষ পর্যন্ত চাকরির তালিকায় তার নাম না আসায় টাকা ফেরত চাইলে দেলোয়ার হোসেন দুলাল বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই টাকা চাইতে গেলে দুলাল ঢাকার বাইরে আছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ২২ জুলাই তাকে অফিসে গিয়ে টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি ফোনও রিসিভ করেননি। শুধু সুমন মিয়া নন, চাকরির আশ্বাস দিয়ে আরও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিজ্ঞ ৩৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীর মধ্যে কয়েকজনকে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্যা রানী ও জয় ডোম-১ এর কাছ থেকে পরিবহন কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন প্রধান এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জু রানীর কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা এবং লিফটম্যান সুমন মিয়ার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাফিজ উদ্দিন প্রধান তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, টাকা ছাড়া কোনো পুরোনো কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে না।

গত এপ্রিল মাসে ই-জিপি পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পায় পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নাছির উদ্দিন এবং পরিবহন কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন প্রধান সমন্বয় করেন। টেন্ডারে ৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুরোনো কর্মীদের মধ্যে ১৬ জন এবং পরে আরও চারজনকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে কর্মরত অন্তত ১৬ জন অভিজ্ঞ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সুইপার নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, বরং সরাসরি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিচালক মো. মতিউর রহমান জানান, ঘুষ বাণিজ্য বা অনিয়ম ফৌজদারি অপরাধ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। সুশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগগুলোর দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।