তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী নদীশাসনের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলার শত শত ভুক্তভোগী বাসিন্দা। আজ রোববার দুপুর ১টায় ‘তিস্তা নদী পাড়ের এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। চরাঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পাউবো কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তিস্তার করাল গ্রাসে গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চরের হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কেবল সাময়িক কিছু জিওব্যাগ ফেলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে। উল্টো ওই জিওব্যাগে বালু ভরাটের খরচও স্থানীয় দরিদ্র ও ভুক্তভোগী মানুষদের নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন এবং খেলাফত মজলিসের গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমিনুর ইসলামসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। এনসিপি নেতা আল মামুন বলেন, তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ বারবার যাযাবর হতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও নতুন করে ঘর তুলতে পারেনি। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু এলাকা পরিদর্শন আর সামান্য কিছু জিওব্যাগ ফেলে দায় সারছেন। ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু না করে এভাবে দায় এড়ানো যায় না। অবিলম্বে দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কার্যকর ভাঙনরোধের কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল কাদের নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিস্তার ভাঙনে তার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও বিলীনের মুখে রয়েছে। তারা আর সাময়িক কোনো জোড়াতালির কাজ চান না, দ্রুত স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান চান। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলা, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সাপ্লাই বস্তা বা জিওব্যাগ দেওয়া হয়। এটি মূলত ফার্স্ট এইড বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। তবে স্থায়ী কাজের ক্ষেত্রে কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন এবং ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।