নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলতি শরতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। এ সময় তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ায় মেয়রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মামদানি তার বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সম্প্রতি নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মামদানি স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার মতো কোনো আইনি ক্ষমতা তার নেই। খবর বিবিসি অনলাইনের।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, মেয়রের আগের হুমকি নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন, তবে তিনি নিউ ইয়র্কে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। নেতানিয়াহুর মতে, মেয়র হিসেবে মামদানির উচিত ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সব নিউ ইয়র্কবাসীর প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু তিনি এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ছুরিকাঘাতের ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে এক সন্দেহভাজন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করে একজন ইহুদি ও একজন এশীয় ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে। ওই হামলায় দুই ভুক্তভোগী আহত হলেও বেঁচে যান এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্কের ইহুদিরা এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তবে মেয়রের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সোচ্চার সমর্থক জোহরান মামদানি গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকে প্রধান ইস্যু করেছিলেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ২০২৪ সালে আইসিসি কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে গত সপ্তাহে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি স্বীকার করেন, তার প্রশাসন আইন পর্যালোচনা করে দেখেছে যে এই পরোয়ানা কার্যকরের স্বাধীন আইনি ক্ষমতা তাদের নেই। তা সত্ত্বেও তিনি মার্কিন ফেডারেল সরকারের প্রতি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং স্পষ্ট করে বলেন যে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্বাগত জানানো হবে না।
এদিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইসরাইল। নেতানিয়াহুও এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চালানো অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।