ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
এবারের বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান যুদ্ধ। গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের অষ্টম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছিলেন এবং তাকে ‘খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু একে ‘কৌশলগত মতপার্থক্য’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান যে, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় নেতাই সেই পারস্পরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
বৈঠকে ইরান ছাড়াও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, যা বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া গাজা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন বছর পার হলেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যানের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ব তথা ইরান ও লেবাননকে দেখানো যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কোনো বড় ফাটল নেই। তিনি ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধের চেয়ে মিলই বেশি। ট্রাম্পের প্রধান মনোযোগ থাকবে ইরান এবং আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর, যেখানে গাজা তুলনামূলকভাবে কম অগ্রাধিকার পাবে। তবে অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জনগণের ক্ষোভের মুখে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তিনি বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।